Shyamol Sobuj Bangladesh

সুন্দরবনে, সিডরের পরে

শুনেছিলাম সিডরে সুন্দরবনের অনেকটাই ধ্বংস হয়ে গেছে। সিডরের পরে সেখানে পর্যটকের আনাগোনা নাকি কমে গেছে। সুন্দরবনের অবস্থা দেখাতে কিছু সংবাদকর্মীকে সেখানে নিয়ে যাওয়ার উদ্যোগ নিয়েছিল বেসরকারি একটি ভ্রমণ সংস্থা। আমাদের সাথে ছিলেন সংস্থাটির পরিচালক মাসুদ
10-a.jpg

সুন্দরবনের নীলকমল অভয়ারণ্যের একটি খাড়ি।

হোসেন আর সুন্দরবন বিশেষজ্ঞ খসরু চৌধুরী।

ঢাকা প্রেস ক্লাবের সামনে থেকে বাস ছাড়ল মংলার উদ্দেশ্যে। কুয়াশাঢাকা ভোরে আমাদের বাস এসে থামল মংলা বন্দরে। সেখানে আমাদের জন্য
53-a.jpg
……….................
কচিখালীর কাশিবনে বনফুল।
………
.................
অপেক্ষা করছিল ভ্রমণতরী এমভি ডিঙ্গি। তড়িঘড়ি করে সবাই উঠে পড়লাম লঞ্চে। এর পর চার দিনের জন্য আমাদের ঘর-বাড়ি এই ডিঙ্গি।

লঞ্চ ছাড়ল ঢাংমারী ফরেস্ট স্টেশনের উদ্দেশ্যে। সেখান থেকে নেওয়া হলো বনে প্রবেশের অনুমতি। এর পর নিরাপত্তাকর্মী সঙ্গে নিয়ে ছুটে চলা। পশুর নদী হয়ে আমাদের গন্তব্য শরণখোলা রেঞ্জের নীল কমল। পশুরের দুই পাশে সুন্দরবনের ঘন জঙ্গল। দেখে বোঝার সাধ্য নেই মাত্র একমাস আগে সিডরের তাণ্ডব বয়ে গেছে এ বনের উপর দিয়ে। গেওয়া, গরাণ, বাইন গাছগুলো অল্প দিনেই সেরে উঠেছে। রাতের বাস ভ্রমণের ক্লান্তি ভুলিয়ে দিল সুন্দরবনের অপার সৌন্দর্য। আমাদের লঞ্চের পিছু পিছু ছুটে আসা একদল গাঙচিলের ওড়াউড়ি আর বনের রূপ দেখতে দেখতে বেশ খানিকটা সময় পেরিয়ে গেল। দুপুরের খাবার খেতে খেতে দূরে আবছা চোখে পড়ল নীলকমল। সুন্দরবনের এই জায়গাটি হিরণ পয়েন্ট নামেই বেশি পরিচিত। 81.jpg

………......................

বনবিভাগের নিরাপত্তাকর্মীর সঙ্গে ।
………......................

খাবার দ্রুত শেষ করে ছুটে এলাম লঞ্চের ছাদে। নীলকমলের মোহনা দিয়ে ঢুকতেই এক ঝাঁক গ্রেট হোয়াইট এগ্রেট ডানা ঝাপটে যেন স্বাগত জানালো আমাদের। একটু সামনেই বাম পাশে চোখে পড়ল ইউনেস্কো ঘোষিত বিশ্ব ঐতিহ্যের ফলক।

নীলকমল ফরেস্ট স্টেশনের একটু সামনে এসে নিরব এক খালের মাঝে নোঙ্গর ফেলল আমাদের ডিঙ্গি। দিনের বাকি সময়টা আমরা ঘুরে দেখব এখানকার জঙ্গল আর শুনশান নিরবতার মাঝে রাত কাটাব এখানেই। ছোট বোট দিয়ে আমরা ঢুকে পড়লাম জঙ্গলে। যাচ্ছি নীলকমলের কেওড়াশুঠি

51.jpg
বনে ত্রিশ হাজারের বেশি চিত্রা হরিণের বাস।

বনে। হিরণ পয়েন্টে ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ ফলক বরারবর খালের ওপারে দক্ষিণ দিকে প্রায় এক কিলোমিটার গেলেই অসাধারণ এই জঙ্গল। এই বনে যাওয়ার জন্য বন বিভাগ শ্বাসমূলের উপর দিয়ে কিছু দূর তৈরি করে দিয়েছে কাঠের চলার পথ। এ পথ দিয়েই আমরা হেঁটে চলছি। কিছুক্ষণ পরে সে পথের শেষ। এবার শ্বাসমূলের ফাঁকে ফাঁকে সতর্ক পা ফেলে চলতে থাকি। ছবি তোলার নেশায় বার বার দলছাড়া হই। বন্দুকধারী গার্ড বার বার বারণ করে একা সামনে এগুতে। তার কথায় বাঘের গন্ধ। এই বুঝি এসে ধরে ফেলবে। কেওড়াশুঠি খালের কাছে এসে আমরা থামলাম। এখানে সিডরের সবচেয়ে বড় চিহ্ন হিসেবে শুয়ে আছে কাঠের তৈরি ওয়াচ টাওয়ারটি। গাছগুলি তাদের ক্ষতি পুষিয়ে ইতিমধ্যেই সবুজে ভরে উঠেছে।

বনের নীরবতায় জেলেদের মাছ ধরা আর নানান পাখির কলকাকলিতে কিছুটা সময় এখানে বেশ উপভোগ করলাম। এটিএন বাংলার শওকত মিল্টন খালের ওপার থেকে ডেকে আনলেন এক কাঁকড়াওয়ালাকে। সবাইকে জিজ্ঞেস করলেন কে কে খেতে রাজি। অনেকেই হাত তুলল খাবে বলে। না খাওয়ার দলটাও মোটমুটি ভারিই ছিল। আমিও ছিলাম সেই দলের অন্যতম সদস্য। তারপরেও ডেইলি স্টার-এর পিনাকিদার সহায়তায় বড় বড় দেখে বেশ কিছু কাঁকড়া কিনে নিলেন মিল্টন ভাই। পরের দিন ডিঙ্গির অভিজ্ঞ পাচকের রান্না দেখে যারা না খাওয়ার জন্য সবার আগে হাত তুলে ছিল তারাই প্লেটে নিয়েছিল সবচেয়ে বেশি। আমি দ্বিতীয়বার আনতে গিয়ে দেখি প্রায় শেষ। ততক্ষণেও মিল্টন ভাই খেতে আসেননি। শেষমেশ বেচারা এসে দেখেন তার ভাগে আছে ছিটে ফোটা দুএকটি টুকরা।

কেওড়াশুঠি জঙ্গল দেখে এবার লঞ্চে ফেরার পালা। আমাদের নেয়ার জন্য ততক্ষণে বোট চলে এসেছে এখানে। এবার আর হাঁটা নয়। বোটে চড়ে খালের দুপাশের দৃশ্য দেখতে দেখতে লঞ্চে ফিরব। যেতে যেতে চোখে পড়ল সুন্দরবনের বহুল প্রতীক্ষিত সব দৃশ্য। খালের চরে চিত্রা হরিণের দল। কখনো আমাদের উপস্থিতি টের পেয়ে বনের মাঝে লুকানো। ত্রিশ হাজারেরও
4.jpg ……….............................
কচিখালী অভয়ারণ্যে খাবার খুঁজছে বানর।
……….............................

বেশি চিত্রা হরিণের বাস এই বনে। নদী কিংবা খালের পাড়ের কেওড়া গাছগুলো একটু নিচু বলে এরা এসব গাছের পাতা খেতে বের হয়। এছাড়া সকালে এবং বিকেলে নদী কিংবা জলাশয়ের কাছে এরা আসে জল পান করতে। বানর দলের নানান কসরৎও দেখলাম খালের চরে। আর খালের পাড়ে গাছের ডালে মাছের জন্য বসে থাকা হোয়াইট ব্রেস্ট, ইয়োলো ব্রেস্ট কিংবা ব্লাক ক্যাপড কিংফিশার, লার্জ এগ্রেট, কাঁদা খোঁচা, ধ্যানী বক আরো কত নাম না জানা পাখি।

সন্ধ্যার সূর্যকে বিদায় জানিয়ে আমরা আমারা বোট থেকে উঠে পড়লাম লঞ্চে। রাতে লঞ্চে একেক কেবিনে জমে উঠছিল মজার মজার আড্ডা। রাতের খাবারের পরে সবাই মিলে দেখলাম সুন্দরবনকে নিয়ে ন্যাশনাল জিওগ্রাফি টেলিভিশনের জন্য শিকাডা ফিল্মের তৈরি প্রামাণ্যচিত্র ‘ইনসার্চ ফর ম্যান ইটারস’। সুন্দরবনে মানুষখেকো বাঘ নিয়ে তৈরি এ প্রামাণ্যচিত্রটি এর আগেও একবার দেখেছিলাম। এবারও দেখতে ভালো লগল। রাত নামল। সুন্দরবনের রাত। খাবারের পরে জেনারেটর যখন থামল পিনপতন নিরবতা এসে ঘিরে ধরল আমাদের লঞ্চকে। কেবিনে শুয়ে স্পষ্ট কানে আসছিল উড়ুক্কু মাছের লাফানির শব্দ।

রাতেই জানানো হয়েছিল ভোর সাড়ে ছটায় আমাদের নিয়ে বোট ছাড়বে। তাই আগেই উঠে রেডি হয়ে নিলাম। কফির মগ হাতে ছাদে গিয়ে সুন্দরবনের ভোর দেখছি। গাইডের ডাকে বোটে উঠে পড়ি। সূর্য তখনো ওঠেনি। বোটে চড়ে দেখছি কুয়াশায় ঘেরা সকালের সুন্দরবন। দুই বোটে দুই দল চললাম দুই দিকে। আমাদের বোটে খসরু ভাই আছেন। আমরা চললাম নদীর দিকে। নদীর চরে ভোরে অনেক পাখি আসে। সেসব দেখে আমরা অন্য
31.jpg
………......................
কচিখালী অভয়ারণ্যে বন্য শূকর।
………......................

একটি খালে ঢুকে পড়ব। কিন্তু ভাটিতে খালের মুখ এতোটাই শুকিয়ে ছিল যে আবার ফিরতে হলো আগের পথে। বন্য শূকর, ভোঁদড় আর নানান পাখির দেখা মিলল সকালের এই ভ্রমণে। প্রায় দু ঘন্টা ঘুরে ফিরে এলাম লঞ্চে। সকালের খাবার খেতে খেতে বিদায় জানালাম নীলকমল অভয়ারণ্যকে। এখানে একটু বিপত্তি ঘটল। ভাটি ছিল বলে নীলকমল মোহনার ডুবো চরে আটকে গেল আমাদের লঞ্চ। দুই ঘণ্টা পরে জোয়ারের টানে নদীর পানি যখল বাড়ল, আমরা চলতে লাগলাম।

এবারে আমাদের গন্তব্য কটকা টাইগার পয়েন্ট। নদীর পরে নদী পিছু ফেলে আমরা চলতে লামলাম। সুন্দরবনকে ভালোভাবে দেখার জন্য আমাদের লঞ্চ চলল অপেক্ষাকৃত ছোট ছোট নদী আর খাল ধরে। পথে দেখলাম তিনকোনা

16b.jpg
সুন্দরবনের গোলপাতা গাছ।

দ্বীপ। মাত্র দিন বিশেক আগেও যে দ্বীপের ছবি দেখেছিলাম আগুনে পোড়া কঙ্কালের মতো, সে দ্বীপের গাছ এখন সবুজে ভরা। চলতে চলতে আমাদের ডিঙ্গি এসে ঢুকে পড়ল সুন্দরার খালে। ছাদে উঠে যেদিকে তাকাই শুধু সবুজ আর সবুজ। খালের দুপাশে গোলপাতার ঝাড়। গাছের ডালে ডালে ছোট বড় নানান পাখি। ছোট্ট এই খালটির সৌন্দর্য বর্ণনা করার ভাষা আমার নেই। আঁকাবাঁকা এই খাল ধরে আমরা চলতে লাগলাম একটু আস্তে আস্তে।

কটকা এসে পৌঁছুতে বিকেল হলো। সবাই নেমে পড়লাম। সিডরের আঘাত সবচেয়ে বেশি লেগেছে এ জায়গাটিতেই। প্রচুর গাছ পড়ে আছে নিচে। যেগুলো দাঁড়িয়ে থাকতে সক্ষম হয়েছে সেগুলোতেও সবুজ পাতা গজিয়েছে। খসরু চৌধুরী জানালেন সিডর মূলত এ জায়গা থেকেই আঘাত হেনেছে সুন্দরবনের ওপরে। আর এ জায়গাটিতে সবচেয়ে বেশি কেওড়া গাছ। খুবই
37-a.jpg ………......................
সুন্দরবনের কটকায় ব্রিটিশ পর্যটক।
………......................

নরম প্রকৃতির গাছ বলে সিডরের ধকল সইতে পারেনি। তবে এ গাছটি আবার খুবই দ্রুত বেড়ে ওঠে বলে কটকার আগের দৃশ্যে ফিরে যেতে খুব বেশি সময় লাগবে না। এখানেও দেখলাম বিকেলের রোদে হরিণের পালের বিচরণ। আমাদের দেখে দৌঁড়ে পালাল জঙ্গলের ভেতরে। কটকা সমুদ্র সৈকতে যেতে যেতে সূর্য ততক্ষণে বিদায় নিতে প্রস্তুত। একদল বৃটিশ পর্যটকের সাথে চোখ জুড়ানো একটা সূর্যাস্ত দেখলাম এখানে। অন্ধকার নামার আগেই ফিরে এলাম লঞ্চে। রাতে জেলেদের কাছ থেকে কেনা ভেটকি মাছ আর মুরগীর বারবিকিউ করা হলো। ডিনার শেষে সবাই মিলে দেখলাম সুন্দরবন নিয়ে ন্যাশনাল জিওগ্রাফি টেলিভিশনের জন্য শিকাডা ফিল্মের তৈরি করা আরেকটি চমৎকার প্রামাণ্যচিত্র ‘সোয়াম্প টাইগার্স’। সুন্দরবনের কটকা আর কচিখালি অভয়ারণ্য দুটিতেই এ প্রামাণ্যচিত্রটি তৈরি করা হয়েছিল বলে আগের দিন সিদ্ধান্ত হয়েছিল কটকাতেই আমরা এটি দেখব। এই প্রামাণ্যটি তৈরির পুরো সময়টা টিমের শিকাডা ফিল্মের টিমের একজন ছিলেন খসরু ভাই। দেখা শেষে তার কাছ থেকে আমরা শুনলাম সে সময়ের মজার মজার অভিজ্ঞতা। আবারো সেই নিরবতায় ঘেরা রাত। বেশ কিছুটা সময় লঞ্চের ছাদে বসে রাতের সুন্দরবন উপভোগ করলাম।

পরদিন খুব ভোরে আমাদের লঞ্চ চলতে শুরু করল কচিখালীর উদ্দেশ্যে। সকাল দশটা নাগাদ আমার পৌঁছে গেলাম কচিখালিতে। এখানকার জেটিটি ভেঙে গেছে ঝড়ে। একেবারে খাড়া সিঁড়ি বেয়ে বহু কষ্ট করেই উঠলাম ভাঙা সেই জেটির উপরে। জঙ্গল ধরে হাঁটতে শুরু করলাম কচিখালী সৈকতের উদ্দেশ্যে। জেলেদের কাছে শুনলাম আজ ভোরেই ব্যাঘ্র মহাশয় এক শাবক
48-b.jpg
………...........................
কচিখালী নদীর চরে গ্রেট হোয়াইট এগ্রেট।
………...........................

নিয়ে তশরিফ এনেছিলেন এ জায়গাটিতে। বাঘ না দেখলেও তার স্পস্ট পায়ের ছাঁপ জেলেদের কথার সাক্ষ্য দিচ্ছিল। এখান থেকে আমারা কাশিবন ধরে জঙ্গলের উদ্দেশ্যে হাঁটা শুরু করি। সুন্দরবনের সুন্দর প্রজাপ্রতির দেখা মিলল এখানে। রঙবেরঙের প্রজাপতির চঞ্চল ডানা মেলা দেখতে দেখতে কখন যে জঙ্গলে ঢুকে গেছি তা টেরই পেলাম না। বেশ কিছুক্ষণ হেঁটে আবারো চলে এলাম কাশিবনের ভেতরে। এখানে বাঘের অবাধ বিচরণ থাকে সবসময়। এই কাশিবনের ভেতরেই বাঘ কখনো কখনো লুকিয়ে থাকে। তাই ভয়ে ভয়ে সামনের দিকে পা ফেলছি সবাই। অনেকেই একটু অপেক্ষা করতে চেয়েছিল এখানে। যদি দূরে কোথাও একপলক দেখা যায় রয়েলবেঙ্গলকে। কিন্তু ইত্তেফাক-এর মহসীন ভাই মনে হয় একটু বেশিই ভয় পেয়েছিলেন। ভয়ার্ত কণ্ঠে তিনি বললেন আমরা তো বাঘের সাথে অ্যাপয়েনমেন্ট করেও আসি নাই যে, সামনে পেলে আমাদের ধরবে না। তার প্রবল আপত্তির মুখে সবাই হাঁটতে শুরু করলাম। গন্তব্য কচিখালী সমুদ্র সৈকত। অপূর্ব সুন্দর বনফুল ফুটে ছিল এই বনের পথে পথে। মাসুদ ভাই তার ওয়াকিটকির বদৌলতে লঞ্চ থেকে এখানে ডেকে আনলেন ইঞ্জিন বোট।

20.jpg..….................................
সুন্দরবনের নীলকমল অভয়ারণ্যে মদনটাক।

……….............................

কচিখালী সৈকত থেকে আমরা পাড়ি জমালাম পক্ষির চড়ে। পক্ষির চর নাম হলেও দুএকটি ফিশিং ঈগল ছাড়া তেমন কোনো পাখির দেখা মিলল না এখানে। তবে এখানকার জেলেদের থেকে জানাতে পারলাম আমরা যে সময়ে এসেছি তাতে পাখি না দেখারই কথা। সকাল আর বিকাল এই চরে প্রচুর পাখির আনাগোনা থাকে। পক্ষির চর দেখে এবারে আমরা চলতে থাকি কচিখালি খালের উদ্দেশ্যে। একদল বন্য শূকর নদীর পাড়ে এসে কী যেন খাচ্ছে। আমাদের বোটের শব্দ শুনে দৌঁড়ে ঢুকে পড়ল বনের ভেতর।

30.jpg
কচিখালী খাড়িতে নৌকায়।

কচিখালী খালের ভেতর এসে আমাদের বোটের ইঞ্জিন বন্ধ করে দেয়া হলো। সুন্দরবনের ছোট ছোট এ খালগুলোকে বলা হয় খাড়ি। খাড়িতে আমরা চলতে লাগলাম। সবাই চুপচাপ। খাড়ির দুইপাশে দেখলাম অনেক পাখি। একটা বড় আকারের বাজ পাখি আমাদের দেখে যেন ছবি তোলার পোজ দেয়া শুরু করল। চোখ মেলে দেখছিলাম বাজ পাখিটার কাণ্ড। আর কানে আসছিল ক্যামেরার সাটারের রিলিজের শব্দ।

কচিখালী খাড়ি দেখে ফিরে এলাম লঞ্চে। এবার ফেরার পালা। লঞ্চও ছেড়ে দিল মংলার উদেশ্যে। হঠাৎই আমাদের থামিয়ে দিল দুপুরের রোদে নদীর চরে শুয়ে থাকা বিশাল আকৃতির নোনা পানির কুমির। দেখতে দেখতে লঞ্চটা চলে গেল অনেক দূরে। মাস্টার সাহেব সবাইকে ভালো ভাবে দেখানোর জন্য লঞ্চ ঘুরিয়ে দিলেন। আমরা চলে আসলাম কুমিরটার খুবই কাছাকাছি। একটু বেশি কাছে আসতেই সাঁতার কেটে ডুব দিল নদীর জলে। এবারের সুন্দরবন ভ্রমণের শেষটা হলো খুবই আনন্দ নিয়ে। এই প্রথম খুব কাছে থেকে সুন্দরবনের কুমির দেখা। এর আগেও দুএকবার কুমির দেখার সৌভাগ্য হয়েছিল। তা অবশ্য বেশ দূর থেকে। তবে ছবি তোলা এবারই প্রথম। গতবারের বাঘ দেখার আনন্দ পেলাম এবার কুমির দেখে। কুমির দেখে আমাদের
27-a.jpg
………...............................
সুন্দরবনের কচিখালীতে নোনা পানির কুমির।
………...............................
থেকেও বেশি আনন্দ পেয়েছিল আমাদের আমাদের সাথের সবচেয়ে ছোট্ট দুই অভিযাত্রী পূর্বিতা আর মুমশাদ। এবারের সুন্দরবন ভ্রমণের অনেক মজার সময় কেটেছে ওদেরকে ঘিরে। সারা লঞ্চ জুড়ে ছিল ওদের ছোটাছুটি। মজার মজার গল্পে কেটে যেত অনেক সময়। অনেক আনন্দ নিয়ে শেষ হলো এবারের সুন্দরবন ভ্রমণ। সুন্দরবনের জীববৈচিত্রেরও কোনো কমতি দেখলাম না এবারেও।

ঢাকা, জানুয়ারি ২০০৭

সুন্দরবনের ছবি